দিল্লিতে যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ভারতের কক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও দলের দুই নেতাকে বিমান থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকে নামার আগেই তাঁদের আটক করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের একটি দল বিমানে প্রবেশ করে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। এ সময় দিপকে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার করছিলেন। তাঁর প্রকাশ করা ভিডিওতে বিমানের ভেতরে পুলিশের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের তর্ক-বিতর্ক করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে সিজেপি নেতাদের পুলিশের কাছে জানতে চাইতে শোনা যায়, তাঁদের বিমান থেকে নামার আগেই কেন আটক করা হচ্ছে। নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিপকে বলেন, তাঁরা বিমান থেকে নেমে আসা পর্যন্ত পুলিশ অপেক্ষা করতে পারত। এরপর তিনি বলেন, ‘আসুন, আমাদের গ্রেপ্তার করুন। আমরা ভয় পাই না।’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন দিপকে। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। দলটির পরিকল্পনা ছিল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা।
তবে দিল্লি পুলিশ শুক্রবারই বিক্ষোভের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশের বক্তব্য ছিল, কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে যথেষ্ট আগে আবেদন করা হয়নি। বিক্ষোভের অনুমতি না পাওয়ার পরও সিজেপি নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। এর মধ্যেই বিমানবন্দরে তাঁদের আটকের ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে সিজেপি তাদের প্রতিষ্ঠাতা দিপকে এবং দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটকের নিন্দা জানিয়েছে। দলটির অভিযোগ, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই নেতৃত্বকে আটক করে কর্মসূচি দুর্বল করার চেষ্টা করেছে দিল্লি পুলিশ। সিজেপি এ পদক্ষেপকে পূর্বপরিকল্পিত বাধা এবং চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তিন নেতার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।
এদিকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকাতে আরও কয়েকজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং সিজেপির আইনি সেলের প্রধান রত্না সিংকেও তাঁদের বাসা থেকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চার শতাধিক সন্দেহভাজন বিক্ষোভকারীকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁদের সবার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং কয়েক ডজন ট্রেন বাতিলের কথা বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, রেলস্টেশন ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এসব পদক্ষেপের ফলে বিক্ষোভকারীদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সিজেপি বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে নাগরিকদের। বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই নেতাদের আটকের ঘটনা রাজনৈতিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক নেতাদের পরবর্তী অবস্থা, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং মুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লি পুলিশের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।