অভিনেতা নানা পাটেকার মারা গেছেন

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ভারতের গোয়ার দোনা পাউলার বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার বার্তা সংস্থা এএনআই-কে জানান, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে দোনা পাউলার মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে আনার পরও টানা ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ডা. শেখর সালকার আরও জানান, এ ঘটনায় একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

তার ছেলে মালহার পাটেকার জানিয়েছেন, বুকে ব্যথা অনুভব করার পরেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নানা। তার পরেই চিকিৎসকদের একটি দল গোয়ার বাড়িতে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের দল সেখানে পৌঁছে দেখে, সংজ্ঞা হারিয়েছেন। টানা সিপিআর দেওয়ার পরেও নানার সংজ্ঞা না ফেরায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাড়ে ৫টা নাগাদ তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

মহারাষ্ট্রে ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া নানা পাটেকার নিজেকে এমন এক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যিনি অভিনয়ের তীব্রতা, সংলাপ বলার দক্ষতা এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তক ছাপ্পান’ ও ‘যশবন্ত’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানা পাটেকারের। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপরাধন’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬) সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন তিনি।

২০০৭ সালের কমেডি সিনেমা ‘ওয়েলকাম’-এ গ্যাংস্টার ‘উদয় শেঠি’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান নানা পাটেকার। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।‘হাউসফুল ৫’ সিনেমাতেও সহায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন নানা পাটেকার।

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমারও অংশ ছিলেন তিনি। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য পঞ্চমবার মনোনয়ন পান নানা।

২০১৬ সালে মারাঠি সিনেমা ‘নটসম্রাট’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতেন তিনি।

চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে নানা পাটেকারকে পদ্মশ্রী দেওয়া হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্লেব্যাক গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন নানা। ‘যশবন্ত’ (১৯৯৭), ‘ওয়াজুদ’ (১৯৯৮) ও ‘আঁচ’ (২০০৩) সিনেমায় প্লেব্যাক গান করেছেন তিনি।

মৃত্যুর চার দিন আগে গোয়ার ডোনা পাউলায় সর্বশেষ জনসম্মুখে দেখা গিয়েছিল নানা পাটেকারকে। সেখানে ‘সম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’-এর ইনস্টলেশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্যও দেন তিনি।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাইরেও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নানা পাটেকারের সম্পৃক্ততা ছিল। বিশেষ করে কৃষক এবং কৃষিসংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ