রাকসু ও শিবির নেতাদের আইনের আওতায় আনাসহ বাম জোটের ৫ দাবি

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ উল্লেখ করে রাকসু এবং শিবির নেতাদের আইনের আওতায় আনাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে এ দাবি জানান তাঁরা।

অন্য চার দাবি হচ্ছে রাকসু ভবনে হামলার অভিযোগের তদন্ত ও দোষীদের অপরাধ অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে; গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিলে হামলার ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে; জুলাই ৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা, ৭টি হলে কোরআন পোড়ানোসহ জুলাই–পরবর্তী সব অমীমাংসিত ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে; প্রক্টর অফিসে কর্তব্যরতদের উপস্থিতিতে আইনবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং পরবর্তী মব ভায়োলেন্সের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ঘটনায় ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

অপরাধ তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার অধিকার ছাত্র প্রতিনিধিদের নেই উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যেকোনো অপরাধ তদন্ত ও শাস্তি প্রদানের অধিকার শুধু প্রক্টরিয়াল বডির। কোনো ছাত্র প্রতিনিধি সেখানে প্রবেশ এবং হস্তক্ষেপের অধিকার রাখেন না। সেদিন রাকসুর জিএস ও এজিএস কর্তব্যরতদের উপস্থিতিতে একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক করে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং প্রক্টররা তাঁদের এই জবরদস্তিমূলক ক্ষমতার চর্চাকে প্রশ্রয় দেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে এবং রাকসুতে হামলার অভিযোগ রাকসু ও শিবিরের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ ৩ শিক্ষার্থীর ওপর দফায় দফায় মব ভায়োলেন্স চালায়, যা অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ। আমরা মনে করি রাকসু ও ছাত্রশিবিরের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট এক দিনে তৈরি হয়নি। এটি একটি ধারাবাহিক ক্ষমতা চর্চার পরিণত রূপ।’

ছাত্র জোটের মিছিলে শিবিরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘গত বছরের ২৭ মে চিহ্নিত রাজাকার এ টি এম আজহারকে দায়মুক্তি প্রদানের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের করা মশালমিছিলে অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রশিবির। যার মধ্য দিয়ে ২৪ পরবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি ফিরে আসে। আমরা হামলাকারীদের ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ পর্যন্ত প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করি। কিন্তু আজ এক বছরের অধিক সময় পরেও এ ঘটনার বিচার করা হয়নি। এই ধারাবাহিক বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সন্ত্রাসীদের আরও আগ্রাসী করে তুলছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ইতিহাসে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব, সিট–বাণিজ্য, হাতুড়িপেটা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, রগ কাটা, অঙ্গহানি ও লাশের রাজনীতির দীর্ঘ কালো অধ্যায় রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা আর সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলোতে যেতে চায় না। কিন্তু প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে দিন দিন আমাদের একটি অগণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ