বোয়ালমারীতে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে মানুষ

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি এখন স্বাভাবিক চলাচলের পথ না হয়ে ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত শত মানুষ এবং ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। রোগী বহনকারী যানবাহনকেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে কখনও এক পাশ দিয়ে, আবার কখনও রাস্তার কিনারা ঘেঁষে চলতে হচ্ছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা রাস্তার পাশের পুকুর ও খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোনটি কতটা গভীর, তা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ বলেন, রাস্তা ভেঙে-চুরে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। এর আগে অনেকবার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে।

জামাল বলেন, রাস্তার অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এটা পাকা রাস্তা নাকি কাঁচা রাস্তা। কোথাও গর্ত, কোথাও উঁচু-নিচু। বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।

নছিমন চালক বিশ্বাস বলেন, আমি নিয়মিত এ রাস্তা দিয়ে মালামাল বহন করি। রাস্তার যে অবস্থা, তাতে প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

এক ভ্যানচালক জানান, কিছুদিন আগে একটি পিকআপ তার ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে ওই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি। তবে সড়কের বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

এক পথচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। কোনও রোগী নিয়ে গাড়ি এলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা  শেখ বলেন, এ সড়কে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। খালেক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে, সেলিম শিকদার, তুজাম শিকদার, কালাম, সিরাজ, হাবিবুর রহমান, নজরুল ও রেজাউলের বাড়ির সামনের অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। এসব স্থানে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনের যাতায়াত এখন স্বস্তির বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি এস্টিমেট করে বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। রাস্তাটি আইডিভুক্ত রয়েছে। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্প অনুমোদন ও সংস্কারকাজ শুরুর অপেক্ষায় আর কতদিন তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে? তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের ভয়াবহ খানাখন্দগুলো সংস্কার করে যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ