প্রবল বৃষ্টির কারণে কেউ হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে, আবার কেউ নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। আজ সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে আছে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের পুরো আঙিনা। কলেজের কয়েকটি ভবনের নিচতলায়ও পানি ঢুকে পড়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কলেজের সামনের সড়কে। সেখানে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে আছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে ঢুকতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে দ্রুত কেন্দ্রে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু), ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কয়েকটি প্লাস্টিকের নৌকা ও ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। সেগুলোয় করে অনেক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন সাজিদ হোসেন নামের এক পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আজ আমার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা। ভোর থেকেই প্রচণ্ড বৃষ্টি। আমাদের বাসা শহরতলির দৌলতপুর এলাকায়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে কোনো যানবাহন পাইনি। শহরের প্রায় সব রাস্তায় পানি। পরে হাঁটাসহ অনেক কষ্টে কেন্দ্রের সামনে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। আমার কোমরের ওপর পানি। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর নৌকায় করে কেন্দ্রে যাচ্ছি। আজকের দুর্ভোগের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।’
মাহমুদা আক্তার নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আজ আমার হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা। বাবার মোটরসাইকেলে করে অনেক কষ্টে কেন্দ্রের সামনে এসেছি। এখানে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়ব চিন্তাও করিনি। পুরো কেন্দ্রই পানিতে ভাসছে। আজ পরীক্ষা কেমন হবে, আল্লাহ ভালো জানেন।’
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, ‘অন্য কোনো কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র এলাকাটি নিচু হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দেখেছি। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার্থীদের কিছুটা বাড়তি সময় দেবেন, যেন তাদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়।’

কুমিল্লা আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় কুমিল্লা নগরে ১০৭ মিলিমিটার এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিতে নগরের অধিকাংশ সড়কে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
টমছম ব্রিজ এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মাসুদ রানা বলেন, ‘ভয়াবহ দুর্ভোগ। এই দুর্ভোগ থেকে কুমিল্লার মানুষের আর মুক্তি নেই। এই এলাকাসহ কুমিল্লা নগরের বৃষ্টির পানি অপসারণে কান্দি খালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে খালটির অনেক অংশ সংকুচিত করা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।’
