বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বলছে, দেশে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন) ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৬১ জন মানুষ।
আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, সংবাদমাধ্যম ও নিজস্ব সূত্রে তারা এই তথ্য পেয়েছে।
ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি আট দফা দাবি জানায় ঐক্য পরিষদ।
৮ দফা দাবির মধ্যে আছে—‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করা। অর্পিত সম্পত্তি আইনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে রায় অনুযায়ী প্রকৃত মালিকদের জমি দ্রুত ফেরত দেওয়া। সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য ৬০টি আসন সংরক্ষণ করা (সংখ্যালঘুদের সরাসরি ভোটে)। বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন করা। পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন। দুর্গাপূজায় ৩ দিন, প্রবারণা পূর্ণিমায় ১ দিন ও ইস্টার সানডেতে ১ দিন সরকারি ছুটি দেওয়া।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সরকার করবে, সেই আশা প্রকাশ করেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। প্রতিনিয়ত আন্দোলন করতে আমাদের ভালো লাগে না। কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব। আমরা দেখতে চাই, সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে। সরকারের ওপর সেই আস্থা আমাদের আছে।’
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনায় ছিলেন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু প্রমুখ।