ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অস্ত্রসহ মহড়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারী বহিরাগতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচয় শনাক্ত হওয়া এসব ব্যক্তির মধ্যে পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার তার বিরুদ্ধে ওঠা অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। স্থানীয় জামায়াত উস্কানি দেওয়ায় আমরা তাদের ধাওয়া দিয়েছিলাম। সেখানে পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। আমাদের হাতে লাঠি ছিল, কোনো অস্ত্র ছিল না। আমি সবাইকে চিনি না। এছাড়া পরিচয় শনাক্ত হওয়া অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অস্ত্রসহ বহিরাগত প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বিবদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কাজ শুরু করেছি। ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দিয়েছি। বহিরাগতদের প্রবেশসহ ঘটনার সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন কঠোর ও সচেতন রয়েছে।