আহত জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা ও পুনর্বাসনে সরকার আন্তরিক : হাফিজ উদ্দিন

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। 

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের চলমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করা হয়েছে। জুলাইয়ের যোদ্ধাদের কল্যাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও সচেতন। তিনি আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, এখন পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, আহতদের ক, খ ও গ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করে মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক শ্রেণির জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা, খ শ্রেণির জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং গ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। শহীদ প্রতিটি পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের সংগ্রামে আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। এ পরিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন স্কিম নেওয়া হয়েছে। যেসব শহীদ পরিবারের সন্তান স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের আবার শিক্ষাভাতা দিয়ে পড়াশোনায় ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যাদের হাত-পা হারিয়েছেন বা কর্মক্ষমতা কমে গেছে, তাদের জন্য ছোট আকারের ব্যবসা চালুর সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিআরডিবি বা অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসনের প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, কোনো শিশুই যেন পিতৃহারা হওয়ার কারণে শিক্ষার বাইরে না চলে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে আড়াই লাখে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তালিকা যাচাই-বাছাই করছে। ইতোমধ্যে ৩০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন সব ধরনের সুবিধা পান, সে বিষয়ে সরকার উদ্যোগী বলে জানান তিনি।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা অন্যায়ভাবে যে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করা হবে বলে উল্লেখ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ