রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিচার দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ থেকে তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালাম দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির স্বার্থে মামলাটি বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। সোমবার (২ মার্চ) নবনিযুক্ত আদালতে মামলাটির প্রথম দিন থাকলেও কোনও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী জানান, মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আগামী ৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ এক জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত সভায় তিনি নেতাকর্মীদের সামনে দেশবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

মামলার ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৫ জনই পলাতক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। তাকেসহ ২৫৯ জনকে পলাতক দেখিয়েই মামলার কার্যক্রম চলছে।

বর্তমানে সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন, যাদের মধ্যে খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন ও জয় বাংলা ব্রিগেডের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা অন্তর্ভুক্ত। গত ২১ জানুয়ারি থেকে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বক্তব্য পেশ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ মার্চ সিআইডি শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আদালত ১৪ আগস্ট পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গত ১১ নভেম্বর মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ