বিষাক্ত তামাক চাষের বলি হচ্ছে শস্যভাণ্ডার ও মানুষ

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

এক সময়ের সবুজ ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির মাঠ এখন তামাকের বিষাক্ত চাদরে ঢেকে গেছে। তামাক কোম্পানিগুলোর প্রলোভন, ঋণ সুবিধা ও বিক্রির নিশ্চয়তার ফাঁদে কৃষকরা ঝুঁকছেন মারাত্মক এই চাষে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দুই হাজার ৬৫০ হেক্টর বেশি। তবে বেসরকারি জরিপ বলছে, আসলে জেলা জুড়ে তামাক চাষের পরিমাণ ২৪ হাজার হেক্টরের বেশি। জেলার ৪৫টি ইউনিয়নের সবকটিতে বিষাক্ত পাতার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা, ধরলা, রত্নাই ও স্বর্ণামতি নদীর তীরে সবজির বদলে তামাকের রাজত্ব চলছে। বর্ষার জমি তামাকের কীটনাশক ও রাসায়নিকের কারণে দূষিত হচ্ছে, যা মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। স্থানীয় কৃষকরা জানান, দেশি-বিদেশি সিগারেট কোম্পানি বিনামূল্যে বীজ, সার ও ঋণ সুবিধা দিচ্ছে এবং বিক্রির নিশ্চয়তা দিচ্ছে। “পুঁজিহীন ব্যবসা আর বেশি মুনাফার আশায় আমরা বাধ্য হয়ে তামাক চাষে জড়াচ্ছি,” একজন কৃষক জানান।

তামাক চাষ ও পাতা শুকানোর কাজে নারী ও শিশু শ্রমের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি কমছে। লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল হাকিম জানান, “শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, চর্মরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।” কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন বলেন, “আমরা সভা, সেমিনার ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করছি। কিন্তু কোম্পানির ঋণ সুবিধা ও বেশি মুনাফার লোভে কৃষকরা আমাদের পরামর্শ উপেক্ষা করছেন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষে জমির উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হয়। নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কঠোর নীতিমালা ও বিকল্প লাভজনক ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। সচেতন মহল বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে লালমনিরহাটের কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ