দাঁত ও মুখগহ্বর চিকিৎসাকে আরও বড় পরিসরের এবং পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো স্পেশালাইজড ডেন্টাল হাসপাতাল। ২৪ ঘণ্টা সেবা, আইসিইউ, ইনডোর-আউটডোর চিকিৎসা এবং শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করল ‘এডিএম (অ্যাডভান্সড ডেন্টাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল) হাসপাতাল’। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ডেন্টাল চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে একধাপ এগিয়ে নেবে।
হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা, ইনডোর ও আউটডোর সুবিধার পাশাপাশি আধুনিক আইসিইউ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শতাধিক অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে পরিচালিত এই হাসপাতালে ডেন্টিস্ট্রির সব বিভাগে কনসালটেন্ট সেবা পাওয়া যাবে। এখানে মুখের ক্যান্সার ও টিউমার, চোয়ালের জটিল অপারেশন, ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি, এন্ডোডন্টিক চিকিৎসা, আঁকাবাঁকা দাঁতের বিশেষায়িত চিকিৎসা, শিশু দন্তরোগসহ মুখ ও দাঁতের সব ধরনের রোগের আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় ইনফেকশন কন্ট্রোল ও এক্রেডিটেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশের অনেক হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ ঝুঁকি কমাতে হলে চিকিৎসা প্র্যাকটিসে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, উন্নত অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা কোনো অংশে কম নয়। সঠিক অবকাঠামো ও সুযোগ পেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। অনুষ্ঠানে রাশিয়ান দূতাবাসের ডিরেক্টর অব হাউজ খ্লেভনয় আলেক্সান্দ্রা আলেক্সান্দ্রাভোনা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ও বাংলাদেশ যৌথভাবে এডিএম হাসপাতালের উন্নয়নে কাজ করবে। প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়ার দরজা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এডিএম হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. মোস্তাফিজ বলেন, এই হাসপাতালকে বিশ্বমানের একটি রোল মডেল ডেন্টাল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন বলেন, এই হাসপাতালের সেবা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যাডভান্সড ডেন্টাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. গোলাম মহীউদ্দীন চৌধুরী বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই হাসপাতালকে দেশের ডেন্টাল চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কনসালটেন্টরা তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর বৈজ্ঞানিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।