হোয়াট্সঅ্যাপ ছেড়ে উইচ্যাটে পাক সেনা! কেন হঠাৎ চিনা মেসেজিং অ্যাপ বেছে নিল ইসলামাবাদ? উদ্বেগে দিল্লি

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

আর হোয়াট্‌সঅ্যাপ ব্যবহার করবে না পাকিস্তান ফৌজ। সেই জায়গায় চিনের তৈরি উইচ্যাটে তথ্য আদান-প্রদান করবে তাঁরা। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিলেন ইসলামাবাদের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির?আর হোয়াটস্অ্যাপ নয়। তার পরিবর্তে সাধারণ সৈনিক ও অফিসারদের চিনা মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাট ব্যবহারের নির্দেশ।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের এ-হেন পদক্ষেপের খবর মিলতেই নয়াদিল্লির কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। এর জেরে বেজিং ও ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সম্প্রতি উইচ্যাট নিয়ে রাওয়ালপিন্ডির পাক সেনা সদর দফতরে জারি হয় বিশেষ একটি অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তি। সেখানে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানের সময় তথ্য আদান-প্রদানে আর ব্যবহার করা যাবে না হোয়াট্‌সঅ্যাপ। তার বদলে যাবতীয় কাজ হবে চিনা মেসেজ়িং অ্যাপে। একই ভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রেও হোয়াট্‌সঅ্যাপ বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন ফিল্ড মার্শাল মুনির।হোয়াট্সঅ্যাপের জন্মদাতা মার্কিন প্রকৌশলী জ্যান কৌম ও ব্রায়ান অ্যাকটন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট মেসেজিং অ্যাপটিকে বাজারে আনেন তাঁরা। ওই বছরের নভেম্বরে অ্যাপ্‌ল নির্মিত আইফোনে সংযুক্ত হয় হোয়াট্‌সঅ্যাপ। ২০১০ সালে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমেও জুড়ে যায় সংশ্লিষ্ট মেসেজিং অ্যাপ। ফলে আমজনতার দৈনন্দিন জীবনের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পড়তে তার আর বেশি সময় লাগেনি।২০১৪ সালে হোয়াট্সঅ্যাপকে কিনে নেয় মার্কিন টেক জায়ান্ট মেটা। তাদের অন্যতম জনপ্রিয় দু’টি সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম হল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। ক্যালিফোর্নিয়ার মেসেজ়িং অ্যাপটিকে কিনতে ওই সময় খরচ হয়েছিল ১,৯০০ কোটি ডলার। পরবর্তী কালে এতে কৃত্রিম মেধা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) প্রযুক্তি যুক্ত করেন মেটার প্রতিষ্ঠাতা তথা চিফ এগ্‌জ়িকিউটিভ অফিসার (সিইও) মার্ক জ়ুকারবার্গ।অন্য দিকে, ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিনে চালু হয় উইচ্যাট। মেসেজিং অ্যাপটির মূল নকশা তৈরি করেছেন অ্যালেন ঝাং। গোড়ায় এর নাম ছিল উইশিন। এর নির্মাণকারী প্রযুক্তি সংস্থাটির নাম টেনসেন্ট। ২০১৮ সালে উইচ্যাটের গ্রাহক সংখ্যা ১০০ কোটির সীমা অতিক্রম করলে দুনিয়া জুড়ে পড়ে যায় হইচই। যদিও জাতীয় নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা কথা মাথায় রেখে ২০২০ সালে ভারতে একে নিষিদ্ধ করে কেন্দ্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ