আফ্রিকার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ইথিওপিয়া, মিশর ও সুদানের মধ্যে বিরোধ চলছে। নীল নদের ওপর নির্মিত এই বাঁধকে ইথিওপিয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখলেও, মিশর ও সুদান আশঙ্কা করছে এতে তাদের পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ইথিওপিয়ার দাবি, ব্লু নাইল নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধ থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে এবং শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। সরকার বলছে, বাঁধটি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য; এতে নীল নদের পানি স্থায়ীভাবে আটকে রাখা হবে না।
অন্যদিকে, মিশর বলছে, তাদের প্রায় পুরো মিঠাপানির উৎসই নীল নদ। তাই বাঁধে পানি ধরে রাখার ফলে নদীর প্রবাহ কমে গেলে কৃষি, পানীয় জল এবং জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সুদানও বাঁধের নিরাপত্তা, পানি প্রবাহের ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যদিও দেশটি নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ ও বিদ্যুতের সুবিধাও পেতে পারে।
২০১১ সালে বাঁধ নির্মাণ শুরুর পর থেকে তিন দেশের মধ্যে বহু দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তি হয়নি। আফ্রিকান ইউনিয়নের উদ্যোগে এবং অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ এখন শুধু পানি বণ্টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কৌশলগত প্রভাব, আস্থা এবং আন্তর্জাতিক নদীর পানি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নেও রূপ নিয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বেড়েছে, তবে তিন দেশের (ইথিওপিয়া, মিশর ও সুদান) মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা, নীল নদের পানি বণ্টন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ঝুঁকি রয়ে গেছে, তবে সব পক্ষই এখনো প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথাই বলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বাড়ার কারণগুলো হলো:
তবে সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি বড় বাস্তবতা হলো, GERD-এ সরাসরি হামলা হলে তা সুদান ও নিম্ন অববাহিকার জন্যও গুরুতর মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই সামরিক বিকল্পকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হয় এবং আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
বর্তমানে উত্তেজনা রয়েছে এবং সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ, পরিস্থিতি এখনও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।