ফেরারির প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক গাড়ি লুচে উন্মোচনের পর থেকেই গাড়িপ্রেমী ও অটোমোবাইল শিল্পে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। এবার রেকর্ড ৪ কোটি ডলারের নিলামমূল্যে, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা, বিক্রি হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে গাড়িটি।
গত ১৫ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি কার উইকে আরএম সোথেবিজের দাতব্য নিলামে লুচের বিশেষ ‘চ্যাসি জিরো’ সংস্করণটি ৪ কোটি মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। নিলামে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির মধ্যে এটি সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ফেরারিরই আরেকটি গাড়ি ডেটোনা এসপি৩-এর দখলে। ২০২৫ সালে দাতব্য নিলামে গাড়িটি ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
এ ছাড়া গাড়িটিতে রয়েছে ১২২ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি। একবার চার্জে এটি ৫৩০ কিলোমিটারের বেশি পথ চলতে পারে বলে দাবি করছে ফেরারি। গাড়িটি ৩৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ডিসি ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। প্রতি ১০০ কিলোমিটারে আনুমানিক ২১ দশমিক ৭ কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে বাস্তবে এই হার গতি, আবহাওয়া, রাস্তার পরিস্থিতি ও ড্রাইভিংয়ের ধরন অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে।
তবে মে মাসে লঞ্চ হওয়ার পর থেকেই লুচেকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া খুব একটা ইতিবাচক ছিল না। প্রচলিত ফেরারি স্পোর্টস কারের নকশার তুলনায় লুচের মিনিমালিস্ট ডিজাইনকে অনেকেই বড় ধরনের নকশাগত অধঃপতন ও নেতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেছেন। গাড়িটির নকশায় সাবেক অ্যাপল ডিজাইন প্রধান জোনি আইভ ও মার্ক নিউসনের প্রতিষ্ঠান লাভফ্রমের সহযোগিতাও ছিল।
এমনকি গাড়িটি উন্মোচনের পরপরই ফেরারির শেয়ারদর একদিনে ৮ শতাংশের বেশি কমে যায়। তবে বিতর্কের মধ্যেও গাড়িটির বাণিজ্যিক চাহিদা নিয়ে ফেরারি সন্তুষ্ট ও আশাবাদী। ২০২৬ সালে প্রায় ৫০০টি লুচে বিক্রির লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে চীনের বাজারে গাড়িটির তুমুল চাহিদা দেখা যায়।