প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক।
নুরুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন নির্বাচিত সরকারকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান নুরুল হক। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে এবং বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন নুরুল হক।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বলেছে, আল-কায়েদা বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। জামায়াত-শিবির অস্ত্র পরিচালনাকারী ক্যাডার করে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগ একই ধরনের ফ্যাসিস্ট—এমন মন্তব্য করে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছে। জামায়াত-শিবির সুযোগ না পেলেও যে ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে তাদের অতীতের রগকাটা, ধর্ষণ ও দখলদারত্বের ইতিহাস সামনে এসেছে।
বর্তমান সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন নুরুল হক। তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে চায়। এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের লোকজনকে শেয়ার দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা চায়। তাদের কোনোভাবেই সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। সুযোগ পেলে তারা জাতির জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্যের সমালোচনা করে নুরুল হক বলেন, বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন ও কুরুচিপূর্ণ বিষয় থাকলে জনগণকে তা প্রতিহত করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আমির হামজার পক্ষে বিবৃতি দেওয়ায় দলটির সমালোচনা করেন নুরুল হক। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, আমির হামজার বিকৃত মানসিকতাকে জামায়াত সমর্থন দিচ্ছে। আমির হামজা, সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামসহ দলটির নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডে জামায়াতের নৈতিক অধঃপতন প্রমাণিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের পরও জামায়াত নিজেদের ইসলামী দল দাবি করলে তা প্রহসন হবে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নুরুল হকের দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই জামায়াতে ইসলামী ছয় মাস না যেতেই বর্তমান সরকারের নানা ধরনের বিষোদ্গার শুরু করেছে।