যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম আলাস্কার দুর্গম রাডার স্টেশনের কাছে একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা আট আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন ও সামরিক কর্তৃপক্ষ (এফএএ)।
প্রাথমিক তথ্যের বরাতে এফএএ জানিয়েছে, সেসনা ৪৪১ মডেলের বিমানটি অ্যাঙ্করেজ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গন্তব্য ছিল প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমের কেপ নিউয়েনহ্যাম।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সোয়া বারোটার দিকে গন্তব্যের কাছাকাছি এসে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন জানান, সিকিউরিটি এভিয়েশনের পরিচালিত ওই চার্টার ফ্লাইটে দুজন পাইলট ও ছয়জন যাত্রী ছিলেন।
আলাস্কান কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি একটি বেসামরিক চুক্তিবদ্ধ ফ্লাইট ছিল। তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় কেউই বেঁচে নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেপ নিউয়েনহ্যাম বিমানবন্দরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন বিমান বাহিনীর এই এয়ারস্ট্রিপ থেকে দূরপাল্লার রাডার সাইটে যাতায়াত করা হয়।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এফএএ ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এ ঘটনার তদন্ত করবে। তবে তদন্তের মূল দায়িত্বে থাকবে এনটিএসবি।
কেপ নিউয়েনহ্যামের এই বিশেষ ঘাঁটিতে শুধু সামরিক ও অনুমোদিত চার্টার ফ্লাইট নামার অনুমতি রয়েছে।
এফএএর মানচিত্র অনুযায়ী, প্রায় ৪,০০০ ফুট দীর্ঘ এই গ্র্যাভেল রানওয়ে ২,৩০০ ফুটেরও বেশি উঁচু এক পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত। রানওয়ের দুই পাশে এবং দক্ষিণ প্রান্তে খাড়া পাহাড় থাকায় নির্দিষ্ট একটি সীমার পর অবতরণ বাতিল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট ডেভিস বলেন, “নিহতরা পেশাদার কর্মী ছিলেন। বৈরী পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা।”
কমান্ড জানিয়েছে, নিহতদের নিকটাত্মীয়দের খবর দেওয়ার পর যাত্রী ও ক্রুদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
নিজেদের ওয়েবসাইটে সিকিউরিটি এভিয়েশন উল্লেখ করেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও আলাস্কার দুর্গম পাহাড়ি রানওয়েতে ওড়ার জন্য তাদের সেসনা কনকোয়েস্ট বিমানগুলো বিশেষভাবে উপযোগী।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নয়জন যাত্রী বহনে সক্ষম এই বিমান সর্বোচ্চ ২৮,০০০ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ৩৩০ মাইল গতিতে উড়তে পারে।