নিজস্ব প্রতিবেদক
সীমান্তে মাদক পাচার ঠেকাতে অভিযান চালিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ১ কোটি ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৩৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে ৮ হাজার ৪৮৮ কেজি ২৭০ গ্রাম গাঁজা এবং ১২ হাজার ১৩৯ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির মাসভিত্তিক প্রকাশিত জাতীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ হিসাব পাওয়া গেছে। ছয় মাসে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল জুনে। ওই মাসে একাই ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আর সবচেয়ে কম ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে মার্চে—১১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ পিস। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি এই সময়ে বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, হেরোইন, কোকেন, বিদেশি মদ, বাংলা মদ, বিয়ার, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন এবং বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপও জব্দ করেছে বিজিবি।
বিজিবির হিসাবে ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৮০ পিস ইয়াবা, ৯৩৭ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ২ হাজার ১৯৯ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। মার্চে ইয়াবা উদ্ধার হয় ১১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ পিস। এ সময় ১ হাজার ১৩৩ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ২ হাজার ৪৫ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। এপ্রিলে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৬ পিসে। ওই মাসে ১ হাজার ১৪৯ কেজি গাঁজা ও ২ হাজার ৪২৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে বিজিবি। মে মাসে ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১ হাজার ৭৫২ কেজি গাঁজা এবং ২ হাজার ৮০৭ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। জুনে মাদক উদ্ধারে বড় অভিযান চালায় বিজিবি। ওই মাসে ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা এবং ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস এবং ৬০৭ গ্রাম হেরোইনও জব্দ করা হয়। জুলাইয়ে ২১ লাখ ১০ হাজার ২৫৮ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৮০৬ কেজি গাঁজা এবং ১ হাজার ২৪৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ ও ৭১ গ্রাম হেরোইন জব্দ করে বিজিবি। জুলাইয়ের এই পরিসংখ্যান বিজিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলোতেও প্রকাশিত হয়েছে।অর্থাৎ ছয় মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। মাসিক গড় হিসাবে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ প্রায় ২১ লাখ ১৪ হাজার পিস। গাঁজা উদ্ধারের মাসিক গড় প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কেজি। ফেনসিডিল উদ্ধারের গড় প্রায় ২ হাজার ২৩ বোতল।
আইস, হেরোইন, কোকেনও উদ্ধার : ইয়াবার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত দামি ও শক্তিশালী মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের চালানও ধরা পড়েছে বিজিবির অভিযানে। মে মাসে ৩ কেজি ৮৮৩ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ২৬০ গ্রাম কোকেন এবং ৩৩৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। জুনে আইস উদ্ধারের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ কেজি ১৫০ গ্রামে। ওই মাসে ৬০৭ গ্রাম হেরোইনও উদ্ধার করা হয়। জুলাইয়ে আরও ২ কেজি আইস এবং ৭১ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। অর্থাৎ শুধু মে, জুন ও জুলাইয়ের প্রকাশিত তথ্যেই অন্তত ২৪ কেজি ৩৩ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ এবং ১ কেজি ১৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়।
বিপুল পরিমাণ মদ ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট : মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের বাইরে বিপুল পরিমাণ মদও উদ্ধার করেছে বিজিবি। জুনে ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ ও ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়। একই মাসে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন এবং ২৪ হাজার ২০১ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়। জুলাইয়ে উদ্ধার করা হয় ৬ হাজার ৫২৬ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫ লিটার বাংলা মদ ও ৭৫৪ ক্যান বিয়ার। এ ছাড়া ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৬টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন এবং ১৬ হাজার ৫৮০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়। শুধু জুন ও জুলাইয়ের দুই মাসেই বিজিবির হিসাবে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ১৯টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন এবং ৪০ হাজার ৭৮১ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার হয়েছে।
মাদক পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : জুলাই মাসে মাদক ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯১ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে বিজিবি। একই সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩১ জন বাংলাদেশি, ৩ জন ভারতীয় ও ৮১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়। জুলাইয়ের অভিযানে মাদক ছাড়াও ৯টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, একটি রাইফেল, পাঁচটি ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড গুলি ও আরও সাতটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
২০২ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ জুলাইয়ে : মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি চোরাচালানবিরোধী অভিযানও চালিয়েছে বিজিবি। শুধু জুলাই মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দ পণ্যের মধ্যে ছিল সোনা, হীরা, রুপা, শাড়ি, থ্রি-পিস, তৈরি পোশাক, কাপড়, কসমেটিকস, কাঠ, কয়লা, জিরা, রসুন, চিনি, চা পাতা, সার, কারেন্ট জাল ও বিপুল পরিমাণ ওষুধ। চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও নৌযানও জব্দ করা হয়।