কঙ্গোয় ‘দাবানলের’ মতো ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, মৃত্যু ১৩০০ ছাড়াল

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের সাম্প্রতিক সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০৯–এ দাঁড়িয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনে দেশটিতে সংক্রমণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।

শীর্ষস্থানীয় একজন জনস্বাস্থ্যবিদ বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাস ‘দাবানলের মতো’ ছড়িয়ে পড়ছে।

গতকাল শনিবার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো সরকারের প্রকাশ করা হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ব্যক্তিরাসহ গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৯৭৩–এ দাঁড়িয়েছে। আগের শনিবারের তুলনায় সংখ্যাটি প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।

কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ আর এতে মৃত্যুর সংখ্যা যে গতিতে বাড়ছে, সচরাচর এমনটা দেখা যায় না। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে চলমান এ মহামারিকে এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত দ্রুততম ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। কঙ্গোয় এখন ইবোলার ‘বুনদিবুগিও’ ধরন বেশি ছড়াচ্ছে। এটা বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেননা, ইবোলার যে চারটি ধরন এখন পর্যন্ত মানবদেহে শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে বুনদিবুগিও ধরন বেশ বিরল। এ ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কঙ্গোয় এখন ইবোলার ‘বুনদিবুগিও’ ধরন বেশি ছড়াচ্ছে। এটা বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেননা, ইবোলার যে চার ধরন এখন পর্যন্ত মানবদেহে শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে বুনদিবুগিও ধরন বেশ বিরল। এ ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি আফ্রিকা) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক আবদুলসালামি নাসিদি আল–জাজিরাকে বলেন, কার্যকর টিকা না থাকায় ইবোলা ভাইরাস রীতিমতো ‘দাবানলের মতো’ ছড়িয়ে পড়ছে।

ইবোলা সংক্রমণের রাশ টানতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ জানিয়েছে, তারা খুব দ্রুত একটি টিকা তৈরি করেছে। গত শুক্রবার এ টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক ডোজ একজন স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হয়েছে।কার্যকর টিকা না থাকায় ইবোলা ভাইরাস রীতিমতো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

আবদুলসালামি নাসিদি, আফ্রিকার জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের প্রধান গবেষক ক্যাটরিনা পোলক বলেন, ‘টিকা পরীক্ষার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। এটা একই সঙ্গে ইবোলার বুনদিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে লড়তে টিকা তৈরির জন্য আমাদের বহুজাতিক উদ্যোগের পরবর্তী ধাপের সূচনা করেছে।’এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে গিনি, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওনসহ পুরো পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে ইবোলার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় অন্তত ২৮ হাজার মানুষের ইবোলা শনাক্ত হয়েছিল। মারাও যান ১১ হাজারের বেশি মানুষ।

ওই সংক্রমণে প্রথম এক হাজার মানুষের শরীরে ইবোলা ছড়িয়ে পড়তে প্রায় আট মাস সময় নিয়েছিল। এবার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় প্রথম এক হাজার ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১০ সপ্তাহের কম সময়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ