নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ নন-এমপিও (বেতন-বিহীন) শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি।
এর আগে রবিবার (২৩ আগস্ট) আবেদন জানিয়ে শর্তসাপেক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালনের অনুমতি নেন শিক্ষকরা।
জানতে চাইলে ‘নন- এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ’ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী কথা দিয়েছেন এমপিওভুক্তির জন্য চূড়ান্ত হওয়া আগের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে আবেদন নিয়ে আরও প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এমপিওভুক্ত করবেন। যদি তা না হয় তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করতাম। যদি কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আজ কর্মসূটি আহ্বান করেছে। যদি সরকার এমপিওভুক্ত না করে তখন বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো। কিন্তু সরকারকে তো সময় দেওয়ার প্রয়োজন আছে।
এদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মো. মাহবুব হোসেন কামালের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সমাবেশের জন্য মোট ২১টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। পুলিশের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনুমোদিত স্থানের বাইরে কোথাও কর্মসূচি পালন করা যাবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বক্তব্য প্রচার করা যাবে না; উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না।
শর্তে আরও বলা হয়, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কর্মকাণ্ড করা যাবে না এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। মানববন্ধন চলাকালে সংগঠনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
পুলিশের অনুমতিপত্রে আরও বলা হয়, কর্মসূচির কারণে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। অনুমোদিত স্থানের বাইরে কাউকে মানববন্ধন করতে দেওয়া যাবে না। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বছরের পর বছর নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের একটাই দাবি, যোগ্য নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।