এআইয়ের বিস্তারে বাড়ছে পানির চাপ

শফিকুল আলম সেলিম
প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

* ২০৩০ সালে তথ্যকেন্দ্রের পানি পদচিহ্ন ৯.৩ ট্রিলিয়ন লিটার হতে পারে; এআইকেন্দ্রিক তথ্যকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ব্যবহার তিন গুণের পথে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বিস্তার যত দ্রুত হচ্ছে, ততই বাড়ছে এর পেছনে থাকা তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা। এআই মডেল প্রশিক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রয়োজন হচ্ছে বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা। উচ্চক্ষমতার সার্ভার চালাতে যেমন প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তেমনি সার্ভার থেকে উৎপন্ন তাপ নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজন শীতলীকরণ ব্যবস্থা। আর সেই শীতলীকরণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে বিপুল পরিমাণ পানি। জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তথ্যকেন্দ্রগুলো ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পানি পদচিহ্ন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন লিটার। এই পরিমাণ পানি সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের এক বছরের মৌলিক গৃহস্থালি পানির চাহিদার সমান।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর ২০২৬ সালের সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, বিশ্বজুড়ে তথ্যকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০২৫ সালের ৪৮৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা থেকে ২০৩০ সালে প্রায় ৯৫০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পথে। ওই সময় বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৩ শতাংশ তথ্যকেন্দ্রগুলো ব্যবহার করতে পারে। একই সময়ে এআই-কেন্দ্রিক তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় তিন গুণ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। এআইয়ের পরিবেশগত চাপের চিত্রটি কিছুটা জটিল। কারণ প্রতি এআই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ দ্রুত কমছে। আইইএর ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের উন্নতির ফলে একটি এআই কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা প্রতি বছর অন্তত এক ধাপ বা ১০ গুণের মাত্রায় উন্নত হয়েছে। সাধারণ টেক্সটভিত্তিক এআই প্রশ্ন এখন একই সময় একটি টেলিভিশন চালানোর চেয়েও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু একই সময়ে এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে এবং ভিডিও তৈরি, জটিল যুক্তি, স্বয়ংক্রিয় এজেন্টের মতো শক্তিনির্ভর ব্যবহারও বাড়ছে। আইইএর হিসাবে, এসব কাজ সাধারণ টেক্সট তৈরির তুলনায় শত শত থেকে হাজার গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। ফলে প্রতি প্রশ্নে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমলেও মোট চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও একই প্রবণতা উঠে এসেছে। গবেষকদের হিসাবে, এআই ব্যবহারের মোট শক্তি চাহিদার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মডেল প্রশিক্ষণের বদলে মডেল চালানো বা ‘ইনফারেন্স’ পর্যায়ে ব্যয় হতে পারে। অর্থাৎ এআই মডেল তৈরি হয়ে যাওয়ার পর কোটি কোটি ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের ব্যবহারই পরিবেশগত চাপের বড় উৎস হয়ে উঠছে।এআইয়ের পানি ব্যবহারের হিসাব শুধু তথ্যকেন্দ্রের ভেতরে ব্যবহৃত পানিতে সীমাবদ্ধ নয়। তথ্যকেন্দ্র চালাতে যে বিদ্যুৎ প্রয়োজন, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পানি ব্যবহার হতে পারে। ফলে এআইয়ের পানি পদচিহ্নের একটি অংশ সরাসরি তথ্যকেন্দরের শীতলীকরণ ব্যবস্থা থেকে এবং আরেকটি অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আসে। উচ্চক্ষমতার জিপিইউ ও অন্যান্য এআই চিপ প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। সার্ভার যত শক্তিশালী ও ঘনভাবে স্থাপন করা হচ্ছে, তাপ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও তত বাড়ছে। আইইএর হিসাবে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এআই সার্ভারের ক্ষমতার ঘনত্ব ১১ গুণ বেড়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে তা আরও চার গুণ বাড়তে পারে। একটি উন্নত তথ্যকেন্দ্রের সার্ভার র‍্যাক তখন সর্বোচ্চ সময়ে প্রায় ৬৫টি পরিবারের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। এই উচ্চ ঘনত্বের সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচলিত বাতাসভিত্তিক শীতলীকরণের পাশাপাশি পানি ও তরলভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এআই সার্ভার সম্প্রসারণ নিয়ে Nature Sustainability-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৭৩১ মিলিয়ন থেকে ১ হাজার ১২৫ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি পদচিহ্নের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে তথ্যকেন্দ্রের সরাসরি শীতলীকরণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পরোক্ষ পানি দুই ধরনের ব্যবহারই ধরা হয়েছে। গবেষণাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পানি ব্যবহারের বড় অংশ তথ্যকেন্দ্রের ভেতরে সরাসরি দেখা যায় না। অর্থাৎ একটি তথ্যকেন্দ্র কত লিটার পানি ব্যবহার করছে, শুধু সেই সংখ্যা দিয়ে এআইয়ের প্রকৃত পানি পদচিহ্ন বোঝা যায় না। ফলে এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব পরিমাপের সময় পানি, বিদ্যুৎ ও কার্বন তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এআইয়ের পানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো এর স্থানীয় প্রভাব। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত পানি থাকলে একটি তথ্যকেন্দ্রের পানি ব্যবহার যে ধরনের চাপ তৈরি করবে, খরা বা পানিসংকটে থাকা এলাকায় একই ব্যবহার তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে তথ্যকেন্দ্র কোথায় নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জনগণের পানীয় জল, কৃষি, শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর মধ্যে একই পানিসম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারও এ বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে সতর্ক করেছে।

২০২৬ সালের হালনাগাদ সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, বড় তথ্যকেন্দ্রগুলো শীতলীকরণের জন্য প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন লিটার পর্যন্ত পানি ব্যবহার করতে পারে। নতুন তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের সময় পানির প্রাপ্যতা, শীতলীকরণ প্রযুক্তি এবং স্থানীয় পানিসম্পদের সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পানির সরবরাহ সীমিত হলে তথ্যকেন্দ্রগুলোকে কম দক্ষ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় যেতে হতে পারে। এতে আবার বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বাড়তে পারে। অর্থাৎ পানি ও বিদ্যুতের সংকট পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।
এআইয়ের দ্রুত প্রসারের পেছনে বিপুল বিনিয়োগও কাজ করছে। আইইএর ২০২৬ সালের হিসাবে, বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তথ্যকেন্দ্রভিত্তিক মূলধনী ব্যয় ২০২৫ সালে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। ২০২৬ সালে এই ব্যয় আরও ৭৫ শতাংশ বাড়তে পারে। আইইএর স্যাটেলাইটভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআইয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘এআই ফ্যাক্টরি’ ধরনের তথ্যকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা গত ১৮ মাসে তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
অর্থাৎ এআইয়ের পরিবেশগত চাপ শুধু বর্তমান তথ্যকেন্দ্রগুলোর কারণে নয়; সামনে যে বিপুলসংখ্যক নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে, সেগুলোর সম্মিলিত প্রভাব নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তথ্যকেন্দ্রের দ্রুত সম্প্রসারণ শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বাড়াচ্ছে না, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নতুন চাপ তৈরি করছে।
আইইএর হিসাবে, ২০২৫ সালে তথ্যকেন্দ্রের বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এআই-কেন্দ্রিক তথ্যকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে আরও দ্রুত প্রায় ৫০ শতাংশ।
গ্রিড সংযোগ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কিছু তথ্যকেন্দ্রের জন্য নিজস্ব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। আইইএর হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২৭ গিগাওয়াট নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন তথ্যকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। একই সময়ে তথ্যকেন্দ্রের বিদ্যুৎ চাহিদার ওঠানামা সামাল দিতে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ব্যবহারও বাড়তে পারে।
এখানেও পানির প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কোন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, সেই উৎপাদন ব্যবস্থায় কত পানি প্রয়োজন এবং তথ্যকেন্দ্র কোথায় বসানো হচ্ছে এসব বিষয় সম্মিলিতভাবে এআইয়ের পানি পদচিহ্ন নির্ধারণ করবে।
তবে পরিস্থিতি শুধু উদ্বেগের নয়। পানি ব্যবহারের চাপ কমাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন ব্যবস্থা নিয়ে এগোচ্ছে।
মাইক্রোসফট ২০২৪ সাল থেকে নতুন ধরনের তথ্যকেন্দ্র নকশা ব্যবহার শুরু করেছে, যেখানে চিপ-স্তরের তরল শীতলীকরণে পানি বাষ্পীভূত না করে বন্ধ-চক্রে তরল ঘুরিয়ে সার্ভারের তাপ সরানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এই নকশা প্রতি তথ্যকেন্দ্রে বছরে ১২ কোটি ৫০ লাখ লিটারের বেশি পানি শীতলীকরণের জন্য ব্যবহার না করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও উইসকনসিনে এ ধরনের পানি-বাষ্পীভবনমুক্ত শীতলীকরণ নকশার পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারও বন্ধ-চক্রের শীতলীকরণ এবং সরাসরি চিপ-শীতলীকরণকে পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর সম্ভাব্য প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সমস্যার আরেকটি দিক হলো তথ্যের ঘাটতি।

যুক্তরাজ্যের সরকারি পানি সম্পদ কাঠামোতে বলা হয়েছে, তথ্যকেন্দ্র খাতে প্রকৃত পানি ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহে এখনও বাধা রয়েছে। বিভিন্ন তথ্যকেন্দ্রের পানি ব্যবহারে বড় পার্থক্য থাকায় নির্ভুল ভবিষ্যৎ চাহিদা অনুমান করাও কঠিন হচ্ছে। এ কারণে তথ্যকেন্দ্রের পানি ব্যবহারের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ও এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব পরিমাপে মানসম্মত তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে এআই অবকাঠামোকে বিদ্যুৎ পরিকল্পনা, পানি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তথ্যকেন্দ্রের পরিবেশগত পদচিহ্নের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেভাবে এআই তথ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়াতেও তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের আগ্রহ বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ থাকা দেশে বড় তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের আগে তাই শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জমির বিষয় বিবেচনা করলেই হবে না।
স্থানীয় পানির প্রাপ্যতা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ, শীতলীকরণ প্রযুক্তি, বর্জ্য তাপ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস এবং আশপাশের জনগোষ্ঠীর পানির প্রয়োজন সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন হবে।
বিশেষ করে পানিসংকটপূর্ণ বা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল এলাকায় তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এআইয়ের ব্যবহার কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের পর্দায় দৃশ্যমান হলেও এর পেছনে থাকা অবকাঠামো ক্রমেই বিশাল আকার নিচ্ছে। ২০২৬ সালের আইইএর হিসাবে, ২০৩০ সালে তথ্যকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ৯৫০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে এবং এআইকেন্দ্রিক তথ্যকেন্দ্রগুলোর ব্যবহার বর্তমানের তুলনায় প্রায় তিন গুণ হতে পারে।
অন্যদিকে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, একই সময় তথ্যকেন্দরগুলোর সংশ্লিষ্ট পানি পদচিহ্ন ৯ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন লিটারে পৌঁছাতে পারে।
তবে প্রযুক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে প্রতি এআই কাজের শক্তি চাহিদা কমছে। নতুন চিপ, উন্নত সফটওয়্যার, পানি পুনর্ব্যবহার এবং বন্ধ-চক্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে পানি ও বিদ্যুতের চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই এআইয়ের পরিবেশগত ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তি কত দ্রুত বাড়বে তার ওপর নির্ভর করছে না। বরং তথ্যকেন্দ্র কোথায় হবে, কী দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে, কীভাবে সার্ভার ঠান্ডা রাখা হবে এবং পানি ব্যবহারের তথ্য কতটা স্বচ্ছ থাকবে এসব সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এআইয়ের প্রকৃত পরিবেশগত মূল্য।
প্রযুক্তির এই দ্রুত বিস্তারের সময়ে তাই এআই নিয়ে আলোচনায় শুধু তার সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নয়, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর এর চাপের হিসাবও সামনে রাখার প্রয়োজন বাড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ