কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য এআই চরিত্র ব্যবহারের সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করছে মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ সব অ্যাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। কিশোরদের জন্য নতুন ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে কিশোরদের জন্য তাদের বিদ্যমান এআই চরিত্রগুলোর ব্যবহার স্থগিত করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মেটার সব অ্যাপেই এটি প্রযোজ্য হবে।
মেটা এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, কিশোরদের জন্য আলাদা ও হালনাগাদ এআই অভিজ্ঞতা তৈরির কাজ চলছে। সেই নতুন সংস্করণ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত কিশোর ব্যবহারকারীরা এআই চরিত্রে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
গত অক্টোবর মাসে মেটা প্রথমবারের মতো অভিভাবক নিয়ন্ত্রণের কিছু ফিচারের ঝলক দেখিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল কিশোরদের এআই চরিত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাট বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ। সেই উদ্যোগ আসে মেটার ‘ফ্লার্টি’ বা অতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ চ্যাটবট আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর। তবে শুক্রবার মেটা জানিয়েছে, ওই অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ফিচারগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে চ্যাটবটের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নীতিনির্ধারকেরা। গত আগস্টে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটার কিছু এআই নীতিমালার কারণে কিশোরদের সঙ্গে উসকানিমূলক বা অনুপযুক্ত কথোপকথনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এরপর থেকেই মেটার এআই সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরদের জন্য এআই চরিত্র ব্যবহারে বিরতি দেওয়া মেটার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে একদিকে যেমন নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ প্রশমিত হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কিশোরদের জন্য এআই অভিজ্ঞতা কীভাবে তৈরি করা হবে এবং সেই অভিজ্ঞতা কতটা নিরাপদ হবে— সেদিকেই এখন সবার নজর।
মেটার এই সিদ্ধান্ত দেখায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এআইভিত্তিক ফিচার চালুর আগে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





