স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়; প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি। ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ আলাপ হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি যে চুক্তিটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হলো, আপনার সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এই বিষয়ে কী আলোচনা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়ে এমন বিশেষ কোনো কথা হয়নি। এটি তো ৯ তারিখে স্বাক্ষর হয়েছে, এটি নিয়ে আলাদা করে কোনো আলাপ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ স্বার্থরক্ষা হয়নি, সেক্ষেত্রে আপনার সরকারের পদক্ষেপ কি থাকবে আপনি কি পদক্ষেপ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সেই চুক্তিটি বলবৎ হওয়ার জন্য কিছু ফরমালাইজেশনের প্রক্রিয়া আছে। আর যেকোনো চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আরো কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে যেগুলোর উপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি। আমি এটিকে হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো এভাবে দেখছি না। একটা চুক্তি হয়েছে এটি একটি বাস্তবতা আমরা আজকের দিনে এই পর্যন্ত।

তিনি বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম সেটি হলো যে, আমেরিকান উচ্চতর আদালতে ট্যারিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়ারের যে ধারায় ট্যারিফ ধার্য করা হয়েছিল, সেই ধারা এই ট্যারিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, এটি ছিল আমার কথা।

চুক্তি নিয়ে আপনার সরকারের সিদ্ধান্ত কী, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো একটা হয়েছে এখানে তো সিদ্ধান্তের কিছু নেই। এই চুক্তি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ দুই সরকারের মধ্যে হয়েছে, এটা তো রাষ্ট্রীয় চুক্তি। সুতরাং এই চুক্তিতে যদি আপনারা কোনো কিছু দেখেন, খারাপ দেখেন সেটা আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আরেকটা জিনিস আমি বলি, কোন চুক্তি অ্যান্ড অফ লাইফ না, জীবনের সর্বশেষ কিছু না। প্রত্যেকটা চুক্তিতে সেলফ কেয়ারিংয়ের জন্য তার নিজস্ব কিছু ধারা থাকে। সেখানে এরকম যদি আমাদের কাছে কিছু প্রতীয়মান হয় যে, এই ধারাটার সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন দরকার। সেখানে ফারদার নেগোসিয়েশনের স্কোপ তো সবসময় রয়েছে। এজন্য আমার অনুরোধ হচ্ছে এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না।

ভিসা বন্ডের আওতা বাংলাদেশ পড়েছে, ব্যবসায়ীরা বলছেন যে তারা যেন ভিসা বন্ডের আওতায় না আসে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবেন সেটা ব্যবসায়ীদের বিষয় হ্যাঁ কিন্তু এটি নিয়ে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা তো সবসময় অনুরোধ করব যেন আমাদের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীরা এবং তাদের দেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীরা যেন স্বচ্ছন্দে সহজভাবে দুই দেশে আসা যাওয়া করতে পারে। এটির মধ্যে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এটির অনুরোধ তো আমাদের সবসময় থাকবে।

নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, অবশ্যই নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান তারা। আগামী দিনে কীভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ এই দেশে আসবে সেটার জন্য দুই একটা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন আজকে। যে এগুলো দূর করলে আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য সেটি সহজতর হবে। বাংলাদেশ একটা উর্বর ভূমি, আমাদের কিছু নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে, যেগুলো দূর করা গেলে তাদের ডেভেলপমেন্ট যেটা আছে সেটা বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশ এলিজিবল হবে।

চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগ না ছড়াতে। আপনারা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখব। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ