শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু, তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি বাপার

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

শনিবার (১৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং শিপইয়ার্ডে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

বাপা বলছে, জাহাজভাঙা শিল্পে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশদূষণ ও শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সংগঠনটি শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছে। হংকং কনভেনশন কার্যকর করার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ ইয়ার্ডগুলোতে পরিবেশগত ও পেশাগত নিরাপত্তার মানদণ্ড ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ইয়ার্ড’-এর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ ইয়ার্ডে এখনো সনাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে জাহাজ কাটার কাজ চলছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় দূষণ, মাটি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকটও বাড়ছে।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে বাপা বলেছে, ইয়ার্ডগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ছাড়াই বিষাক্ত গ্যাস ও অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে আসছেন। এর ফলে ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড এবং ভারী লোহার পাতের নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। ১৪ আগস্টের ঘটনাটিও একই ধরনের নিরাপত্তাহীনতার ফল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাপার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে গত ১৩ বছরে চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে মোট ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, নিরাপত্তায় অবহেলার কারণে প্রতিটি মৃত্যুর দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বাপা অবিলম্বে ১৪ আগস্টের দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ