শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জেলায় জেলায় মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল, ময়মনসিংহসহ অন্তত ১১ জেলায় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও গতকাল সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেকে পরীক্ষা দিতে পারেননি। দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত, যাঁরা গতকাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করায় ক্ষমা না চাইলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা। বেলা তিনটার দিকে তাঁরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায়
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায়

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একজন হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন বলেন, বৈরী পরিবেশের মধ্যে গতকাল পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন করা হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানালেও শিক্ষামন্ত্রী পাত্তা না দিয়ে অযাচিত মন্তব্য করেছেন। এ জন্য তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি করছেন।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধের কারণে উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে এখানে আটকে আছি। কখন ঢাকায় পৌঁছাতে পারব, জানি না।’ ঢাকা থেকে বরগুনাগামী একটি বাসের যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মেঘলা ও ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি হচ্ছে। তার ওপর গাড়ি আটকে থাকায় এখন পরিস্থিতি অসহনীয় লাগছে।’

ময়মনসিংহে মহাসড়ক অবরোধ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে ময়মনসিংহে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নগরের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁদেরই একজন দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বোর্ডে বন্যা এবং সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা স্থগিত না করে শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, “আমরা নাকি ফার্মের মুরগি।” অথচ শিক্ষার্থীরা বুকসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। কেন তাঁদের এই দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী এসি রুমে বসে আছেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা কষ্ট করছেন। দেশের আবহাওয়া এত খারাপ ওনার কী চোখে পড়ে না?’

ময়মনসিংহে চার দফা দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের টাউন হল এলাকায়
ময়মনসিংহে চার দফা দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের টাউন হল এলাকায়

শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গিয়ে বুঝিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। বেলা আড়াইটায় তাঁরা মহাসড়ক ছেড়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে এক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর তাঁরা কর্মসূচি শেষ করেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতির যাতে কোনো ধরনের অবনতি না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। আশা করছেন শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে।

কুমিল্লায় প্রতিবাদ সমাবেশ

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কুমিল্লায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’–এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ সময় তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, মুরগি মুরগি, কে বলেছে কে বলেছে, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী’, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে কান্দিরপাড় থেকে মিছিল নিয়ে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে গিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইশাত বলেন, ‘গতকাল আমরা চরম দুর্ভোগ নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। কোমরসমান পানি মাড়িয়ে ভেজা কাপড়ে পরীক্ষা দিয়ে তাঁদের অনেক সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ করে আমাদের সঙ্গে চরমভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত চাই।’

যোগাযোগ করলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ  বলেন, ‘আমি একটি সভায় যোগ দিতে ঢাকায় এসেছি। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশ পালনের বিষয়টি আমার জানা নেই। শিক্ষা বোর্ড সচিবকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার জন্য বলছি। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বগুড়ায় সাতমাথা ব্লকেড

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে তাঁরা নগরের সাতমাথা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি সাতমাথা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বগুড়ার মতো মহানগরে জলজট তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। উল্টো গতকালের পরীক্ষায় সিলেবাস–বহির্ভূত প্রশ্ন করা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে এবং শিক্ষাসচিবকেও অপসারণ করতে হবে। অন্যথা কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিভিন্ন দাবিতে বগুড়ার ব্যস্ততম সাতমাথা অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার দুপুরে
বিভিন্ন দাবিতে বগুড়ার ব্যস্ততম সাতমাথা অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার দুপুরে

পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, গতকাল পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা। জেলা প্রশাসক দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বেলা একটা থেকে আবার সাতমাথা এলাকা ‘ব্লকেড’ করে বিক্ষোভ করেন।

বেলা তিনটার দিকে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম (স্বাধীন) ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদারের নেতৃত্ব বিএনপি ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে তাঁরা নগরে ভবনে যান। বিকেল চারটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানে ছিলেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ফিরে আবার সাতমাথায় অবস্থান নেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

টাঙ্গাইলে ঢাকা-টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বেলা দেড়টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগর জলপাই এলাকায় গিয়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগর জলপাই মোড়ে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগর জলপাই মোড়ে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া ও পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কের শহর বাইপাসের নগর জলপাই এলাকায় গিয়ে অবরোধ করে। এতে যমুনা সেতুগামী লেনে যান চলাচল সোয়া এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে

দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এরপরও বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তাঁরা শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী  বলেন, শিক্ষার্থীরা একটা স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাঁদের যে দাবি স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব, সেগুলো পূরণের ব্যাপারে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু যে দাবি স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বেলা দুইটার দিকে তাঁরা বেরিয়ে যান। দুইটার পর আবার তাঁরা ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়।

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের বোঝানোর পর বেলা আড়াইটার দিকে তাঁরা বেরিয়ে গেছেন। দ্বিতীয়বার ঢোকার সময় ফটক বন্ধ ছিল। তাঁরা বিক্ষোভ করতে থাকলে ফটক খুলে দেওয়া হয়।

সিলেটে অবস্থান কর্মসূচি

এদিকে সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘সিলেটের সার্বজনীন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বেলা দুইটার দিকে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিলেটে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষােভ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা, সিলেট, ১৪ জুলাই
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিলেটে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষােভ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা, সিলেট, ১৪ জুলাই

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। শিক্ষামন্ত্রী যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজারমুখী সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বেলা সোয়া তিনটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার থেকে জিন্দাবাজারের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কুড়িগ্রামে পরীক্ষার্থীদের মানববন্ধন

একই দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। কর্মসূচিতে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী মোস্তফা সরকার, মানবিক বিভাগের শরিফ আহমেদ ও কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী সাকিব আল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কুড়িগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মানববন্ধন। মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে
কুড়িগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মানববন্ধন। মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নেননি। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও তাঁদের আপত্তি আছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ীদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা এবং গতকাল পরীক্ষা দিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে বাস্তবসম্মত সমাধানের দাবি জানান তাঁরা।

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল চারটায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

সুনামগঞ্জে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের আলফাত স্কয়ারে
সুনামগঞ্জে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের আলফাত স্কয়ারে

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু একেক বোর্ডে একেক রকম প্রশ্নে পরীক্ষা হচ্ছে। এটা বৈষম্য। ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম বিপর্যস্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, বন্যা হয়েছে। সুনামগঞ্জেও পানি বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় সব জায়গায় পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত ছিল। শিক্ষামন্ত্রী কাজের চেয়ে কথা বেশি বলছেন। আগামীকাল বুধবার দুপুরে একই দাবিতে শহরের গার্লস স্কুল পয়েন্টে সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়া হয়।

নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে ‘সব কলেজের সচেতন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায়
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায়

সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন রাফিউল বারী, সাদিয়া রহমান, নাঈম আহমেদ, জিয়াদ হোসেন, সামিউর আহমেদ, মহাসিনা ফারহানা, বিপ্লব মণ্ডল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক পরীক্ষার্থী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। এই দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবকে অপসারণ করতে হবে। এ সময় আগামী ১৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁ সফর করলে প্রতিবাদে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

রংপুরে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

একই দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জেলা স্কুল মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর জেলা পরিষদের সামনে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর জেলা পরিষদের সামনে

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়লেও সরকার তা আমলে নেয়নি। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান অস্বাভাবিকভাবে কঠিন হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্পূর্ণ অমানবিক। এ সিদ্ধান্তের দায় শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ