‘ময়লার ভাগাড় বনে কেন’ স্লোগানে পরিবেশবাদীদের বন রক্ষার দাবি

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ময়লার ভাগাড় নির্মাণ বন্ধ এবং মহেশখালী ও চকরিয়ায় গর্জনবনে সড়ক নির্মাণ বন্ধসহ দেশের বন রক্ষার দাবিতে নাগরিক সমাবেশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সামনে এ নাগরিক সমাবেশ হয়। ‘বিক্ষুব্ধ পরিবেশবাদীগণ’–এর ব্যানারে আয়োজিত এ সমাবেশে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এ সময় প্রতিনিধিরা ‘এলজিইডির কাম কী, বন উজাড় আর কী’, ‘প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন, আর নয় আর নয়’, ‘বন বাঁচাও, প্রাণ বাঁচাও’, ‘পরিবেশ রক্ষায়, আপস নয়’—নানান স্লোগান দেন।

নাগরিক সমাবেশে ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি কর’, ‘বনের মধ্যে ভাগাড় নয়’, ‘সিটি করপোরেশনের কাজ পরিবেশ বাঁচানো, দূষণ করা নয়’, ‘ময়লার ভাগাড় বনে কেন? জবাব চাই’, ‘মধুশিয়া গর্জনবনে, সড়ক নির্মাণ করা যাবে না’, ‘কাঠের চশমা পরে থাকলে দূষণ দেখব কেমনে’ প্রভৃতি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

পরিবেশবাদীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সামনে, ২৮ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বন্য প্রাণী রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীকেও আমরা পরিবেশের পক্ষে কথা বলতে দেখি। তিনি পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন কাজ করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা যখন দেখি, গাজীপুর সিটি করপোরেশন বনের ভেতর রাস্তা ও ভাগাড় নির্মাণ করে, তখন প্রশ্ন জাগে, তারা কি আসলে দেশের স্বার্থে কাজ করে?’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রতিনিধি রুমানা শারমিন বলেন, কক্সবাজারে হাতির চলাচলের জন্য যে করিডর ছিল, রেললাইন নির্মাণ করে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। এখন চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জনবন ও মহেশখালীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতির চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ করিডর বা রুট বাধাগ্রস্ত করে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এই নির্মাণকাজ এখনই বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

বেলার ক্যাম্পেইন ও পলিসি সমন্বয়ক বারিশ হাসান চৌধুরী ময়লা ব্যবস্থাপনা করার নামে বন ধ্বংস না করার দাবি জানান।

পরিবেশবাদীদের হাতে ছিল নানা প্ল্যাকার্ড। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সামনে, ২৮ জুলাই ২০২৬
নাগরিক সমাবেশ শেষে পরিবেশবাদীরা বন অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করা; জাতীয় উদ্যানের কাছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করা; ময়লা ফেলার জন্য অন্য কোনো উপযুক্ত ও পরিবেশবান্ধব জায়গা বেছে নেওয়া। ময়লা-আবর্জনা উৎসমুখ থেকেই আলাদা করার আধুনিক পদ্ধতি চালু করার দাবিও জানান তাঁরা।

নাগরিক সমাবেশে বাপা, বেলা, মিশন গ্রিন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ