জ্বালানি সংকটে বিপাকে রাইডশেয়ারিং চালকেরা, আয় নেমেছে অর্ধেকে

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে রাইডশেয়ারিং খাতে। তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে। এক সময় যে পেশাটি তরুণদের কাছে আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সেটিই পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তার প্রতীকে। আগে যেখানে চালকেরা দিনে গড়ে দেড় হাজারের বেশি টাকা পর্যন্ত আয় করতেন, বর্তমানে সেই আয় কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, ট্রিপের সংখ্যা কমে যাওয়া, তেল পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং এমন পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়ার কারণে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপে পড়ছেন। ফলে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হওয়ার বা বিদেশে পাড়ি জমানোর কথাও ভাবছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে নতুনবাজারের বাঁশতলা বাস স্টপেজে কথা হয় রাইডশেয়ারিং চালক শরীফ সুজনের সঙ্গে। করোনার পর থেকে তিনি মোটরসাইকেলে রাইডশেয়ারিং করছেন। তিনি জানান, আগে আধাবেলার বেশি কাজ করলে সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ১,০০০ টাকা আয় হতো, আর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করলে ১,৫০০ টাকার মতো আয় করা সম্ভব ছিল। তবে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। ঈদের পর এখন পর্যন্ত তিনি মোট ৫,০০০ টাকাও আয় করতে পারেননি।

dhakapost

হতাশা প্রকাশ করে শরীফ সুজন বলেন, ইদানিং অ্যাপে তেমন কল আসে না। মানুষ আগের মতো যাতায়াতও করছে না। আগে সারাদিনে অনেক ট্রিপ পাওয়া যেত, এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও একটি ট্রিপ মেলে না। আবার কখনও একটি-দুটি ট্রিপ পাওয়া যায়। এভাবে চলতে থাকলে ঢাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। বিদেশে যাব, নাকি অন্য কোনো কাজ করব— সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

বেলা ১১টার দিকে রামপুরা এলাকায় কথা হয় আরেক চালক কবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি সাড়ে তিন বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে আটটায় বের হয়েছি, এখন পর্যন্ত একটি ট্রিপও পাইনি। ঈদের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সারাদিন অপেক্ষা করলে অল্প কিছু ট্রিপ পাওয়া যায়, তাও পর্যাপ্ত নয়। এর ওপর তেলের জন্য আবার দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। তাহলে কাজ করব কখন, বিশ্রামই বা নেব কখন?

কবির হোসেন বলেন, আগে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়ে বের হতাম। কিন্তু এখন সেই লক্ষ্য পূরণ করা তো দূরের কথা, দৈনিক খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মোটরসাইকেলের কিস্তি, বাসা ভাড়া এবং সংসারের খরচ মিলিয়ে আর্থিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। আয় না বাড়লে এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন কিছু ভাবতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ