গোল বন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার দরুন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক খেলা ফ্রান্স স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে সেমিফাইনালে একেবারে বোতলবন্দি হয়ে বিদায় নেয়।

ফলে দুই পরাশক্তিই মায়ামির মাঠে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিতে নেমেছিল কিছুটা বিরক্তি ও একরাশ আক্ষেপ নিয়ে। তবে সান্ত্বনার এই ম্যাচই যে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০ গোলের এক মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়বে, তা কে জানত! ফরাসিদের গোল বন্যায় ভাসিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থানটি নিজেদের করে নিল ইংলিশরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার দর্শকের সামনে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ১০ গোলের এক শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দেয়। বুকায়ো সাকার চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পর ছেলেদের ফুটবলে নিজেদের সেরা সাফল্য পেল ইংলিশরা, যা দেশের বাইরে তাদের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ও সেরা অর্জন।

ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি ডিফেন্সকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। খেলার মাত্র ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের গোলের পর ১৮ মিনিটে রাইসের অ্যাসিস্ট থেকেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা। এরপর ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) যথাক্রমে মার্কাস রাশফোর্ড ও এবেরেচি এজের পাস থেকে জোড়া গোল পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা।

১৯৩০ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪ গোলে পিছিয়ে পড়ার চরম তিক্ত স্বাদ পায় ফরাসিরা।

কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। এই জোড়া গোলের সুবাদে লিওনেল মেসিকে (২১ গোল) টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২২ গোলের একক মালিক এখন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। এই রেকর্ড তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও সবার ওপরে বসিয়ে দিয়েছে। এর মাঝে ৫৪ মিনিটে এমবাপের অ্যাসিস্ট থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাও ফ্রান্সের হয়ে একটি গোল করেন।

খেলার ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাকা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে এবং ১৯৫৮ সালে কিংবদন্তি পেলের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়লেন এই আর্সেনাল তারকা। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে গোল করে ব্যবধান ৫-৪ এ নামিয়ে আনলেও, ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ গোলের মধ্য দিয়ে বেলিংহ্যামও চলতি টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম গোল পূর্ণ করেন, যা এক বিশ্বকাপে যেকোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই এখন সর্বোচ্চ গোল হওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। যা ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলের আগের রেকর্ডকে অনায়াসে ছাড়িয়ে গেছে। ফরাসিদের জন্য দিনটি চরম লজ্জার ও হতাশার, কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনোই তারা এক ম্যাচে ৬ গোল হজম করেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ