নেপালে বন্যা : এক সেকেন্ডে ১৬৫ ফুট পথ পেরিয়েছে কাদা-পাথরের স্রোত

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

নেপালে বিধ্বসী আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের জন্য অনেকেই ভূমিকম্পকে দায়ী করেছেন; তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সাভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, তুষারধসের কারণেই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এসেছিল নেপালের ভোটেকোশী নদীতে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইউএসজিএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৫১২৭ মিটার উচ্চতায় হিমবাহটির একাংশ ভেঙে গিয়েছিল। ঢালু পথে বেশ কিছুটা গড়িয়ে আসার পর কয়েকশো মিটার উচ্চতা থেকে তুষার, কাদামাটি এসে পড়ে দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সঙ্কীর্ণ উপত্যকায়। তার পর পর্বতের ঢাল বরাবর ওই তুষার এবং কাদা-পাথরের স্রোত নীচের দিকে নামতে শুরু করে।

চীন সরকারের অন্যতম ভূতত্ত্ববিদ গুয়ো জাও চ্যাং জানিয়েছেন, তুষার এবং কাদা-পাথরের স্রোত প্রতি সেকেন্ডে ১৬৫ ফুট (৫০ মিটার) দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে।এই ভাবে প্রায় ২০ কিলোমিটার জায়গা কার্যত চোখের নিমেষে তুষার আর কাদা-পাথরের স্রোতে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এত অল্প সময়ে দুর্যোগ নেমে আসায় কিছু বুঝে উঠতে পারেনি সাধারণ লোকজন।

কাদা-পাথরের স্রোত ভোতেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর খাত বরাবর ১০০ কিলোমিটার নীচে, প্রায় নেপাল-ভারত সীমান্তের কাছে নেমে আসে। হিমবাহটি ভেঙেছিল ৫২০০ মিটার উচ্চতায়। কাদা-পাথরের স্রোত ৪৫০০ মিটার নীচে নেমে আসে।

ধসে পড়া হিমবাহ থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে নেপালের তিমুরে শহর। এই শহরের কিছুটা আগেই ভোতেকোশী নদী এসে ত্রিশূলী নদীতে মিশেছে। এই পথ ধরেই কাদা-পাথরের স্রোত পৌঁছোয় ৫ কিলোমিটার দূরের স্যাপ্রুবেসীতে। তার পর সেখান থেকে আরও কিছুটা এগিয়ে হাকুবেসিতে। কাদা-পাথরমিশ্রিত ঘোলা পানিতে তখন ভাসছে আসবাবপত্রের ভাঙা টুকরো, গাছের শুকনো ডাল, বাড়ির ভাঙা অ্যাসবেসটস, গ্যাস সিলিন্ডার ইত্যাদি।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, কাদা-পাথরের স্রোত আছড়ে পড়ছে ত্রিশূলী বাজারে। দোকানবাজারে ভিড় জমানো মানুষ দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করছেন। আর তাদের ঠিক পিছনেই খয়েরি বর্ণের কাদা-পাথরের স্রোত গোটা এলাকাকে ঢেকে দিচ্ছে।

এর পর নিম্ন অববাহিকা বরাবর আরও নেমে এসে এই স্রোত পৌঁছোয় দেবীঘাটে। তখন অবশ্য তার গতি কিছুটা কমেছে। আরও ধ্বংসাবশেষ জমা হয়েছে তাতে। তার পর হিমবাহ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে কোলতারপুরে এসে ক্ষান্ত হয় এই কাদা-পাথরের স্রোত।

নেপালের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন জানিয়েছে, হড়পা বানের কারণে ভোটেকোশি এবং ত্রিশূলী নদীতে এসে জমেছিল বিপুল পরিমাণ তুষার গলা পানি, বড় পাথর, কাদামাটি ইত্যাদি। এর ফলে ওই দুই নদীতে দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি হতে থাকে। গলচি এলাকায় মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে নদীর জলস্তর ৯ মিটার বেড়ে যায়। নদীখাত ছাপিয়ে অববাহিকা এলাকায় থাকা বাড়িঘর, দোকানবাজার— সব কিছু মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায়।

বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। দ্রুত গলছে হিমালয়ের হিমবাহগুলো। এর ফলেই বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকার ওই পর্বতশৃঙ্গের কাছে হিমবাহের একাংশ ভেঙে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ