শত বছরের পুরোনো টিনের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসা

প্রকৃতির সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশের সময় শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাস্থল ১০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই ‘রুগ্ন’ হয়ে পড়েছে। শত বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ অবকাঠামো, তীব্র জনবল সংকট আর আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতির উত্তরণে ছয় বছর আগে ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯২৪ সালে একটি ছোট ডিসপেনসারি হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। পরে ১৯৮০ সালে ১০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও প্রায় ১১ ভাগ নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেই বহির্বিভাগ ও জরুরি সেবা চালাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত বছরের পুরোনো নলখাগড়ার ভবনের দেয়াল খসে পড়ছে, টিনের ছাউনির ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে চরম শঙ্কা। হাসপাতালে এক্সরে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালু নেই। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধও হাসপাতালে না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অসম্পূর্ণ ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। প্রান্তিক দীঘিনালার মানুষ যেন আর চিকিৎসার অভাবে ভোগান্তির শিকার না হয়—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

স্থানীয় বাসিন্দা মেডিকেল শিক্ষার্থী সুগম চাকমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। শত বছরের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া এই হাসপাতালে দীঘিনালা ছাড়াও সাজেক ও লংগদু উপজেলার অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. আ. রাজ্জাক বলেন, অবকাঠামোর অভাবে এখানে নিয়মিত ডাক্তার পাওয়া যায় না, পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই।

মো. নাছির উদ্দিন বলেন, সামান্য পরীক্ষা করতে হলেও বাইরে ক্লিনিকে যেতে হয়, কিন্তু সবার তো টাকা নেই। মো. আলমগীর হোসেন নামের আরেক রোগী বলেন, দ্রুত ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার বলেন, দীঘিনালা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দুই উপজেলা ললংগদু এবং সাজেকের দূর্গম এলাকার অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে আমরা চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছি না। নতুন ৫০ শয্যার ভবন চালু এবং শূন্যপদ পূরণ হলে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানজিল পারভেজ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। শিগগিরই অসম্পূর্ণ কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে জনবল ও ওষুধ সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ