আর ১৪ ঘণ্টা পরই পর্দা উঠবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-খ্যাত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। মেগা ইভেন্টটির ২৩তম আসরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনেক প্রশ্ন এবং ঘটনা এখনও অমীমাংসিত। উচ্চমূল্যের টিকিট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তদের বিতৃষ্ণা ছিল আগে থেকেই। এ ছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে প্রতিযোগী দল ও সমর্থকদের ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কড়াকড়ির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সেসব নিয়ে কথা বলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০ ডলার। তবে নিউইয়র্কের বাইরে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের সাধারণ আসনের টিকিটের দাম ধরা হয়েছিল সর্বোচ্চ ৮৬৮০ ডলার পর্যন্ত। আর হসপিটালিটি আসনের দাম ওঠে ৭৩২০০ ডলার পর্যন্ত। পরে ফিফা ফাইনালের টিকিটের দাম আরও বাড়িয়ে ১০৯৯০ ডলার থেকে ৩২৯৭০ ডলার পর্যন্ত ধার্য করেছে। এদিকে, তীব্র সমালোচনার পর ফিফা জাতীয় ফেডারেশনগুলোর নিয়মিত সমর্থকদের জন্য ৬০ ডলারের টিকিট দেয়। ইনফান্তিনোর মতে– ওই ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৩০ হাজার টিকিট দেওয়া হয়েছে।
টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক ও টেক্সাসে তদন্ত চলছে। সেসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলে জানান ইনফান্তিনো, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে যে আইনি তদন্ত বা অভিযোগ হয়েছে, তা নিয়ে আমরা খুবই স্বস্তিতে আছি। সাড়ে ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টিকিট বিক্রি শুরুর আগে আমরা সেরা আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সবকিছু যাচাই করেছি। আমরা যদি ভুল কিছু করে থাকি, তাহলে উত্তর আমেরিকায় টিকিট বিক্রি করা সবাই একই ভুল করছে। আমরা সব ধরনের তদন্তকে স্বাগত জানাই। আমরা সবকিছু উপস্থাপন করতে প্রস্তুত এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রস্তুত।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী শনিবার হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তানের। কিন্তু তার সঙ্গে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সম্পৃক্ততা আছে দাবি করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ ছাড়া ইরানের ফুটবলভক্তদের টিকিট বাতিলেরও অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের মতো বিশ্বকাপের প্রতিযোগী দেশের খেলোয়াড়-স্টাফদের অসম্মানের সঙ্গে তল্লাশি চালানোর মতো ঘটনায়ও তৈরি হয়েছে সমালোচনা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পৃথিবী এখন খুবই আগ্রাসী এক পৃথিবী। নিরাপত্তা সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা সম্মান করতে হয়। আমরা পর্দার আড়ালে কাজ করছি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ফিফার ভূমিকার প্রশংসা করেন ইনফান্তিনো, ‘আমি মনে করি আমেরিকায় ইরানকে খেলতে আনা সফলতা। আমি জানি না আর কে এটি করতে পারত। সবাই বিশ্বাস করে এটি সঠিক কাজ। তবে আমরা চাঁদে বাস করি না, আমরা পৃথিবীতে বাস করি এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।’
এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা ও বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের আয় নিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘তার সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব হতো না, এটা খুব সহজ কথা। তিনি দ্রুতই বিশ্বকাপের গুরুত্ব এবং এর প্রভাব বুঝেছিলেন। আমরা সবকিছু পে-টু-ভিউ করতে পারতাম। তাহলে সম্ভবত ৩০ বিলিয়ন ডলার আয় হতো। কিন্তু তখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বিশ্বকাপ দেখতে পারত না।’