যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলায়েলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের জন্য ১০টি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে।
ক) উভয়পক্ষই আগ্রাসন-বিরোধী নীতি অনুসরণ করবে এবং ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মেনে নিতে হবে।
খ) হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিদেশি জাহাজগুলোকে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হবে।
ঘ) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে এবং এসব ঘাঁটির মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে।
ঙ) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং বোর্ড অফ গভর্নরস-এর সকল প্রস্তাব বাতিল বাতিল করতে হবে।
ছ) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
জ) ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক ও মধ্যম পর্যায়ের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
ঝ) জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ পরিষদ আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নরদের যাবতীয় প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
ঙ) বিদেশ ইরানের যত সম্পদ ও সম্পত্তি আছে, সেসবের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে।
এই দশ প্রস্তাবের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরান এবং তাদের মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করা, ইরানের সব ফ্রোজেন সম্পতি অবমুক্ত করা— প্রভৃতি শর্তের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থায়ী যুদ্ধাবসানের জন্য ইরানের এই দশ শর্ত সম্পর্কে এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এসব শর্ত গৃহীত হলে প্রতিটি আন্তর্জাতিক চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে হবে এবং ইরানের জনগণের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক বিজয় বলে গণ্য হবে।