বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, ডলার সংকট অনেকটাই কেটেছে, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (বিওপি) আবার উদ্বৃত্তে ফিরেছে, রিজার্ভও বাড়ছে—সব মিলিয়ে অর্থনীতির বড় সূচকগুলো এখন তুলনামূলক স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে মূল্যস্ফীতি কমার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো—দেশে মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী, নিত্যপণ্যের দামে মানুষের ভোগান্তি কমছেই না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে সুদহার বাড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হয়নি। এর মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনি অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। নির্বাচনি ব্যয়, বাজারে বাড়তি নগদ অর্থের প্রবাহ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধিজনিত তারল্য এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে টানা চার বছর ধরে চালু থাকা সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি কেন প্রত্যাশিত ফল দিতে পারছে না—সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি ব্যয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রবাসীরাও পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অর্থ পাঠাচ্ছেন, যার একটি অংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াচ্ছে। এসব কারণে বাজারে নগদ অর্থের সরবরাহ বাড়লেও তার বড় অংশ যাচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে সুফল নেই
২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, দুধের গুঁড়া ও জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার কমেছে। চালের দাম টনপ্রতি ৬০ ডলারের বেশি কমেছে। পাম অয়েল, সয়াবিন তেল ও গমের দামও নিম্নমুখী। কিন্তু বাংলাদেশে এসব পণ্যের দাম কমেনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। আমদানি মূল্য ও খুচরা বাজারমূল্যের ব্যবধান ক্রমেই বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব এবং দুর্বল তদারকির স্পষ্ট প্রমাণ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “পেঁয়াজ ও শাকসবজির মতো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া দেখায় দেশের কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা নাজুক। কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বাজার কাঠামোর পরিবর্তন ও কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”
গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শীত মৌসুম শুরু হলেও সবজির দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। কৃষক পর্যায়ে দাম কমলেও ভোক্তা পর্যায়ে তার প্রভাব পৌঁছায়নি, যা সরবরাহ চেইনের মধ্যবর্তী স্তরে অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।
সুদহার বাড়িয়েও কাজ হয়নি
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। নীতি সুদহার বাড়িয়ে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল চাহিদা কমিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা। কিন্তু বাস্তবে ঋণের উচ্চ সুদের কারণে বেসরকারি খাত আরও চাপে পড়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমেছে, অথচ বাজারে পণ্যের দাম কমেনি।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বৃদ্ধিকে যে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনা করা হয়ে আসছে, বাংলাদেশে সেই অস্ত্র এখন কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে দেওয়া সুদহার বৃদ্ধির প্রেসক্রিপশন দেশের বাস্তবতায় প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘‘দেশের মূল্যস্ফীতি চাহিদাজনিত নয়। সুদহার বাড়িয়ে যে নীতি নেওয়া হয়েছে, তা কাজে আসেনি। বরং সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। সরকার শক্তিশালী গোষ্ঠী ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন ঘিরে সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর বাড়তি ব্যয়ের ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায়। এর মাধ্যমে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং কিছু অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক খাতেও প্রবেশ করে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় নির্বাচনি ব্যয়ের কারণে সাময়িক হলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে।’’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই অর্থপ্রবাহের বড় অংশ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেড়ে যায়, যার ফল হিসেবে পণ্যের দাম বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হয়। গত দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতির হার সামান্য হলেও বাড়ছে। নির্বাচনি মাস, এরপর রমজান ও ঈদের অতিরিক্ত চাহিদা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।’’
অর্থনীতিবিদ মামুন রশীদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার ফল। ফলে মুদ্রাপ্রবাহ কমানোর প্রচলিত নীতি এখানে তেমন কার্যকর হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, বাজার সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট এবং দুর্বল তদারকি মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করছে।
সরকারি ব্যয় ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে ২ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ২২৯ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়। গণভোটের কারণে এই ব্যয় আরও প্রায় ২০ শতাংশ বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনে সরকারের ব্যয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশন প্রচারে আচরণবিধি কঠোর করলেও বাস্তবে প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, তোরণ, ডিজিটাল প্রচারণা ও শোডাউনে ব্যয় বাড়ছেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরিতে ব্যস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কর্মীরা। এতে একদিকে যেমন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে, অপরদিকে বাজারে অর্থের প্রবাহ আরও বাড়ছে।
প্রার্থীদের ব্যয় ও কালোটাকার বাস্তবতা
নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীরা ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে যেটি বেশি—খরচ করতে পারবেন। কাগজে-কলমে হিসাব অনুযায়ী ২ হাজার ৫০০ প্রার্থীর মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। তবে বাস্তবে এই ব্যয় কয়েকগুণ বেশি হয় বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এর বড় অংশই আসে কালোটাকা থেকে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৩৮ শতাংশই কালোটাকা, যার পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকা।
রেমিট্যান্স ও বাজারে নগদ প্রবাহ
জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে এসেছে ২ বিলিয়ন ১২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৮ বিলিয়ন ৩৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপরীতে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত) এই অঙ্ক ছিল ১৫ বিলিয়ন ১৩৭ মিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৪৩ মিলিয়ন ডলার কিনেছে, যার বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে ৯০৮৮ কোটি টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৩,৮৭৮.৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে, যার বিপরীতে ৪৭ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা বাজারে ছেড়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক ও গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। এসব কারণে বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুটা ছিল খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপের সঙ্গে। বছরের প্রথম দিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ১১ শতাংশে পৌঁছায়, যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা তুঙ্গে ছিল। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের বেশির ভাগ সময় পেঁয়াজের দাম সহনীয় থাকলেও শেষ তিন মাসে হঠাৎ কেজিতে ১৭০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। পরে ভারত থেকে আমদানি এবং নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম নেমে আসে প্রায় ১০০ টাকার আশপাশে।
সবজির বাজারও অস্থির ছিল। মাঝামাঝি সময়ে প্রায় কোনও সবজি ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যায়নি। সরকারি পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালজুড়ে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। নভেম্বরে বেড়ে হয় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
আগামী মাসে নির্বাচনের কারণে জানুয়ারিতে এ হার আরও বাড়তে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও রমজানের প্রভাব মূল্যস্ফীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বে কমছে মূল্যস্ফীতি, ব্যতিক্রম বাংলাদেশ
আইএমএফ, স্ট্যাটিস্টা ও জেপি মরগান রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির গড় হার নেমে এসেছে ৩ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও গত বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ভারতের মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ১ শতাংশের নিচে, শ্রীলঙ্কায় তা প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি, আর পাকিস্তানে ৬ শতাংশের নিচে।
অথচ বাংলাদেশে একই সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ব্যবধান প্রমাণ করে যে সমস্যার মূল জায়গা চাহিদার অতিরিক্ত চাপ নয়, বরং সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার কাঠামোর গভীর দুর্বলতা।
চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি, ফল নেই
২০২২ সালে বৈশ্বিক মন্দা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী সুদের হার বাড়ানো, টাকার প্রবাহ কমানো, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো এবং টাকার অবমূল্যায়নের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং বিনিয়োগ, শিল্প ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে টাকা পাচার বন্ধ, বিনিময় হার স্থিতিশীল করা এবং ছাপানো টাকা বাজারে ছাড়া বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেয়। এতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় পণ্যের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।
বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা মূল সমস্যা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন ও আমদানি পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজির কারণে দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও এবং শুল্ক ছাড় দেওয়া হলেও ভোক্তা পর্যায়ে এর সুফল পৌঁছায় না। ফলে শুধু সুদের হার বাড়িয়ে বা টাকার প্রবাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর হস্তক্ষেপ না করলে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকেই যাবে।
ব্যবসায়ীরা সুদের হার কমানোর দাবি জানালেও মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে না নামায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও নীতি সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রাক্কালে এই দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রশ্নবিদ্ধ তথ্য ও আস্থার সংকট
বিবিএসের মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি যা দেখানো হয়, বাস্তবে ভোক্তার অভিজ্ঞতা তার চেয়ে বেশি। তবু সরকারি তথ্য ধরলে দেখা যায়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির চাপ বহন করছে।
বিশেষ করে সব মিলিয়ে নির্বাচন, রেমিট্যান্স প্রবাহ, অনুৎপাদনশীল ব্যয় এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার চাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রেখেও যখন কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না, তখন বাজার ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।